মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের উপ-কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক মনির হোসেন বশিরের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়ে তার দুই হাত ও দুই পায়ের রগ কেটে দিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। গুরুতর আহত বশির বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জানা গেছে, আহত বশির মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা মিতরা ইউনিয়নের পালোড়ার চর গ্রামের resident মনিরের ছেলে। এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বশিরের বাবা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত মধ্যরাতে সদর থানা এলাকা শেষ এবং সিংগাইর থানা শুরুর মধ্যবর্তী ২০০ গজের মধ্যে এই ঘটনাটি ঘটে। ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে হামলাকারীরা বশিরের বন্ধু ছিল এবং তাদের বাড়ি সদর উপজেলায়। বশিরকে কীভাবে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হয়, কেন নিয়ে যাওয়া হয় এবং কেন এই নৃশংস হামলা চালানো হয়— এসব বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তিনি আরও জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ। সোমবার দুপুরে জেলা সভাপতি এম এ সিফাদ কোরাইশী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে বশিরের ওপর এই নৃশংস হামলা চালিয়েছে।

তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভ। তার দাবি, এটি মূলত অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল এবং বশিরের বন্ধুরাই তাকে কুপিয়েছে। মধ্যরাতে বশির কাদের সাথে এবং কেন ইটভাটায় গিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখার জন্য তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ সংগঠনটি এই ঘটনায় ছাত্রদল বা বিএনপির অঙ্গ-সংগঠনের নাম জড়িয়ে গুজব ছড়াচ্ছে। এর আগে শহীদ মিনারে একজনের আত্মহত্যার ঘটনা নিয়েও একই ধরনের গুজব ছড়িয়েছিল ওই সংগঠনটি বলে তিনি দাবি করেন।