মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের আমপাং জেলার তামান দাতুক আহমদ রাজালি এলাকায় বিদেশি কর্মী সরবরাহে জালিয়াতির অভিযোগে দুই বাংলাদেশিসহ মোট ২০ জনকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৬৫টি বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ বিভিন্ন দেশের মোট ৩৪১টি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টায় এই অভিযান চালানো হয়। পুত্রাজায়ায় অভিবাসন সদর দপ্তরের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান বিভাগ, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বোর্ডের কৌশলগত সম্মতি শাখা এবং গোয়েন্দা বিভাগ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য ও নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে অভিযানটি চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, আটকদের মধ্যে জালিয়াতিতে জড়িত সন্দেহে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দুই বাংলাদেশি মালিক ও ব্যবস্থাপক রয়েছেন। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ছয়জন স্থানীয় নারী কর্মচারী এবং ১২ জন গ্রাহককে আটক করা হয়েছে। গ্রাহকদের মধ্যে নয়জন বাংলাদেশি পুরুষ ও তিনজন ইন্দোনেশীয় নারী রয়েছেন।
অভিযানে ২৬৫টি বাংলাদেশি, ৬৩টি ইন্দোনেশীয়, ১২টি পাকিস্তানি ও একটি ভারতীয় পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া ৬ হাজার ৭০০ মালয়েশীয় রিঙ্গিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অভিবাসন বিভাগ।
প্রাথমিক তদন্তের বরাতে মহাপরিচালক জানান, চক্রটি কথিত এ-টু-বি নিয়োগকর্তা পদ্ধতি ব্যবহার করে কর্মী সরবরাহের জালিয়াতি চালাত। এ ব্যবস্থায় একটি প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা অনুমোদন নিয়ে সাময়িক কর্মসংস্থান পরিদর্শন পাস বা পিএলকেএসের আওতায় কর্মী আনত। পরে মূল নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ না করিয়ে বেশি মুনাফার আশায় এসব কর্মী অন্য প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হতো বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
তদন্তে আরও দেখা গেছে, কর্মী নিয়োগের কোটা অনুমোদন পেতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত তথ্য গোপন করে ভুয়া নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় আসা বিদেশি কর্মীরা কোটার আবেদন করা মূল প্রতিষ্ঠানে কাজ না করে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন। এ প্রক্রিয়ায় প্রতি কর্মীর বিপরীতে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত মুনাফা করা হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাকারিয়া শাবান আরও জানান, কর ফাঁকি দিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃত আর্থিক হিসাবের তুলনায় অনেক কম মুনাফা ঘোষণা করেছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ২০২০ থেকে ২০২৩ করবর্ষের ব্যক্তিগত আয়সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।
তিনি জানান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটির মালিক, ব্যবস্থাপক ও একজন স্থানীয় কর্মচারীকে ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯/৬৩-এর ধারা ৫৬(১)(এল) এবং পাসপোর্ট অ্যাক্ট ১৯৬৬-এর ধারা ১২(১)(এফ) অনুযায়ী অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ১২ জন বিদেশি গ্রাহককেও অভিবাসন আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানের আওতায় আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।





















