মাফিকুল ইসলাম

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের গুড়গুড়ি এলাকায় মধ্যপাড়া আবাসিকের বাউন্ডারি ওয়াল ঘেঁষে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে কবরস্থানসহ প্রায় ৮ শতক জায়গা দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগকারী আলম জানান, ওই জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ বছর আগে তাদের পারিবারিক কবরস্থান ছিল। প্রায় ৩০ বছর আগে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা কর্তৃপক্ষ জায়গাটি অধিগ্রহণ করে নেয়। পরে কর্তৃপক্ষ আবাসিক এলাকার বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করতে গেলে কবরস্থান থাকায় পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে মানবিক বিবেচনায় প্রায় ৫ শতক জায়গা বাদ রেখে বাউন্ডারি ওয়ালের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

আলমের দাবি, এরপর থেকেই ওই জায়গাটি তারা পারিবারিক কবরস্থান হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। এর মধ্যে তাদের পরিবারের চারজন সদস্যকে সেখানে দাফন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি জায়গাটি নিয়ে আপত্তি তোলেন সংলগ্ন মাদ্রাসার মুহতামিম আজিজুল হক। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সামাজিক বৈঠক হলে নতুন কবরগুলোর জন্য এক শতক জায়গা রেখে বাকি অংশ নিয়ে সমঝোতার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আজিজুল হক ওই সিদ্ধান্ত না মেনে পুরো জায়গাটি ঘিরে ফেলেছেন বলে অভিযোগ করেন আলম।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার মুহতামিম আজিজুল হক মুঠোফোনে বলেন, “প্রশ্নই আসে না অন্যের জায়গা বা কবরস্থান কেন আমি দখল করব। এই জায়গাটি আমরা তাদের ওয়ারিশদের কাছ থেকে ক্রয় করেছি।

এদিকে ওই সামাজিক বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন সদস্য জানান, জায়গাটি একসময় মধ্যপাড়া কঠিন শিলা কর্তৃপক্ষ অধিগ্রহণ করেছিল। পরবর্তীতে আবাসিক এলাকার বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের সময় সেখানে কবরস্থান থাকায় পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ মানবিক বিবেচনায় কবরস্থানসংলগ্ন অংশ বাদ রেখে বাউন্ডারি নির্মাণ সম্পন্ন করে। এরপর থেকে জায়গাটি আলমদের পরিবারের দখলে ছিল বলে তারা দাবি করেন।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি মাদ্রাসার মুহতামিম আজিজুল হক জায়গাটি ক্রয়ের দাবি করলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কবরস্থানের জন্য এক শতক জায়গা রেখে বাকি অংশ ঘিরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, জায়গাটির প্রকৃত মালিকানা, অধিগ্রহণের বিষয় এবং ক্রয়সূত্রে মালিকানা—সবকিছু যাচাই করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে বিরোধের স্থায়ী সমাধান হতে পারে। একই সঙ্গে কবরস্থানের বিষয়টি মানবিক ও সামাজিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।