মো. আমিনুল ইসলাম

​ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার লেবু বুনিয়া গ্রামে এক ব্যক্তির ঘর ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে। জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও আদালতে মামলা চলার মধ্যেই এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটল।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী জাহিদুল ইসলাম বশির নিজের ক্রয় করা জমিতে ঘর তুলে বসবাস করে আসছিলেন। আজ ভোররাতে তাঁর সেই বসতঘরে ভাঙচুর চালানো হয়।

​জাহিদুল ইসলামের অভিযোগ, "আদালতে বাটোয়ারা মামলা চলমান থাকার পরও বাদী আল আমিন আকন আইন অমান্য করে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে আমার সীমানার টিনের বেড়া ভাঙচুর করেন। ওই ঘটনায় আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তাঁরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরই জেরে আজ ভোররাতে মাসুদ আকন ও আল আমিন আকনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন এসে আমার ঘর ভাঙচুর করে।

জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেওয়ার চেষ্টা করলেও ব্যস্ত পাওয়ায় যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। পরে আমাদের ডাকচিক্কারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।"

​তবে ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিপক্ষ মাসুদ আকন।

তিনি পাল্টা দাবি করে বলেন, "আমাদের পৈতৃক জমিতে জাহিদুল বেশি জায়গা জবরদখল করে ঘর তুলে বসবাস করছেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ- বৈঠক হয়েছে এবং রায়-রোয়েদাদে আমরা জমি পাব বলে সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু তিনি তা মানছেন না। জাহিদুল নিজেই নিজের ঘর ভেঙে এখন আমাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন।"

​মাসুদ আকন আরও অভিযোগ করেন, "রাতে ভাঙচুরের শব্দ শুনে আমরা সেখানে গেলে জাহিদুল ও তাঁর লোকজন আমার ছোট ভাই আল আমিন আকনকে মারধর করে। ওই সময় ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ আমাদের থানায় আসার পরামর্শ দেয়। সকালে থানায় বিষয়টি জানিয়ে আমার ভাইকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি।"

​বর্তমানে আহত আল আমিন আকন কাঁঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​ঘটনার বিষয়ে কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু নাছের রায়হান জানান, উভয় পক্ষকে তাঁদের সব কাগজপত্র নিয়ে থানায় দেখা করতে বলা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।