সাংবাদিক সাজেদা হকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলামের দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। গত ৯ আগস্ট ননজিআর মামলা নম্বর ৩০৬৮/২০২৫ এবং পল্টন মডেল থানার সাধারণ ডায়েরী (জিডি) নম্বর ২০৩১/২৫-এর পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। মামলাটি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করে নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে খন্দকার মিরাজুল ইসলাম পল্টন থানায় উপস্থিত হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, সাংবাদিক সাজেদা হক প্রিন্টিং সংক্রান্ত কাজের প্রয়োজনে পুরানা পল্টনের সোবহান ম্যানশনের ৪৬/১ নম্বর ঠিকানায় অবস্থিত তার অফিসে যান। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরেই সাজেদা হক দাবি করেন যে, তাদের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দাবি করা খন্দকার মিরাজুল ইসলাম তার জিডিতে উল্লেখ করেন যে, সাজেদা হকের সাথে তার এমন কোনো চুক্তি হয়নি।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় যে, গত ১১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে সাংবাদিক সাজেদা হক খন্দকার মিরাজুল ইসলামের অফিসে উপস্থিত হয়ে তাকে এবং তার অফিস কর্মচারী কুসুম আক্তারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ অত্যন্ত বাজেভাবে হেনস্থা করেন। অভিযোগকারীর দাবি, সাজেদা হক উচ্চস্বরে হুমকি দিয়ে বলেন, "আমি গণমাধ্যমকর্মী, তোকে মামলা দিবো এবং জেলের ভাত খাওয়াবো।"

আদালত এই জিডিতে উল্লিখিত অভিযোগগুলো তদন্তের নির্দেশ দিলে পল্টন মডেল থানা পুলিশ তদন্তে নামে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করেন সাব-ইন্সপেক্টর মো: নূর ইসলাম। তিনি জানান, আদালতের আদেশ অনুযায়ী তিনি প্রকাশ্য ও গোপন উভয় পদ্ধতিতে তদন্ত পরিচালনা করেছেন। তদন্ত চলাকালীন তিনি আবেদনকারী খন্দকার মিরাজুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং ঘটনার স্বপক্ষে সাক্ষী ও প্রমাণ হাজির করার অনুরোধ জানান। কিন্তু অভিযোগকারী কোনো সাক্ষী বা প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও জানান, তিনি ঘটনাস্থলে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করেন, কিন্তু সেখানে সাংবাদিক সাজেদা হকের উপস্থিতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, বিবাদী সাংবাদিক সাজেদা হকের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) সংগ্রহ করে দেখা যায়, ঘটনার দিন তিনি নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় অবস্থান করছিলেন। অর্থাৎ, অভিযোগের সময়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না।

তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, সাধারণ ডায়েরীর আবেদনকারীর অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। পুলিশি তদন্তের এই প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে বিজ্ঞ আদালত সাধারণ ডায়েরীর অভিযোগ নিষ্পত্তি করে নথি সংরক্ষণের আদেশ প্রদান করেন।