মো: আল-মাহফুজ শাওন
খুলনার বটিয়াঘাটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে হয়রানি, নানা অজুহাতে দিনের পর দিন ঘোরানো এবং ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সঠিক কাগজপত্র নিয়ে গেলেও নানা জটিলতা দেখিয়ে সেবা প্রত্যাশীদের হয়রানি করা হয়—এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কয়েকজন।
সম্প্রতি নিজের জমির দলিল নিবন্ধন করতে গিয়ে দুই দফায় হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী খায়রুল ইসলাম। তার দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গেলেও বিভিন্ন অজুহাতে তাকে নিবন্ধন প্রক্রিয়া থেকে বিরত রাখা হয় এবং একাধিকবার অফিসে আসতে বলা হয়।
খায়রুল ইসলামের অভিযোগ, তিনি সাংবাদিক হওয়ায় তার কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় করা সম্ভব নয়—এমন কারণে তাকে অতিরিক্ত হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
বয়স নিয়ে আপত্তির অভিযোগ
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, জমির দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে একজন বালকের বয়স ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাব-রেজিস্ট্রার অনজু ঘোষ দলিল সম্পাদনে আপত্তি জানান। তার দাবি, সরকার নির্ধারিত বয়সসীমার আগে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ইস্যু না হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে বয়স হয়নি—এমন যুক্তি দেখিয়ে তাকে হয়রানি করা হয়েছে।
তবে দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বয়স, পরিচয়, অভিভাবকত্ব ও অন্যান্য আইনগত শর্তের নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দলিলটি কেন নিবন্ধনযোগ্য নয় বলে মনে করা হয়েছিল, সে বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রারের লিখিত ব্যাখ্যা বা সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী।
সরাসরি ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ
সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রকাশ্যে বা সরাসরি ঘুষ লেনদেন হয় বলেও অভিযোগ করেছেন খায়রুল ইসলাম। তার দাবি, অতিরিক্ত অর্থ না দিলে কোনো কোনো সেবাগ্রহীতাকে নানা অজুহাতে দিনের পর দিন অফিসে ঘোরানো হয়।
তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
‘প্রভাব খাটালে হয়রানি’—ভুক্তভোগীর অভিযোগ
খায়রুল ইসলামের অভিযোগ, সাব-রেজিস্ট্রার অনজু ঘোষের বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তর থেকে ফোন করে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে পরবর্তীতে তার প্রতি আরও বিরূপ আচরণ করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীন কোনো প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, একজন গণমাধ্যমকর্মী নিজের জমির বৈধ দলিল করতে গিয়ে যদি বারবার হয়রানির শিকার হন, তাহলে সাধারণ মানুষকে কী ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়—তা সহজেই অনুমান করা যায়।
কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি
বটিয়াঘাটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধন প্রক্রিয়া, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি এবং ঘুষ লেনদেনের অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
তিনি একই সঙ্গে নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজিআর) ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তার দাবি, কোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনিয়ম করে থাকেন, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত।
অভিযোগ প্রকাশের পর হুমকির দাবি
এদিকে এসব অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার পর তিনি হুমকি পাচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন খায়রুল ইসলাম। বিষয়টি নিয়ে তিনি নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহায়তা চেয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি বা অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগকারী কোনো গণমাধ্যমকর্মী হলে তার ওপর হুমকি বা চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রার অনজু ঘোষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
এ ঘটনায় বটিয়াঘাটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম, অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
















