ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন তাদের, যারা জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ছাড়াই কেবল ‘একদফা’র আওয়াজ তুলছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সাধারণ মানুষের কল্যাণে বাস্তব কোনো কর্মসূচি নেই এমন দলগুলোর লক্ষ্য জনসেবা নয়, বরং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে সতর্ক করে বলেন, দেশে একটি নির্দিষ্ট পক্ষ পরিকল্পিতভাবে অরাজকতা ও অস্থিরতা তৈরির পাঁয়তারা করছে। তারা গণমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ‘একদফা’ স্লোগান ছড়িয়ে দিয়ে মাঠ পর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। উপস্থিত জনতার সামনে তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, “যারা আজ কেবল একদফা-একদফার কথা বলছে, তাদের কি সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আছে? তাদের কি খাল কাটা বা নদী খননের মতো জনহিতকর কোনো পরিকল্পনা রয়েছে? বৃক্ষরোপণ কিংবা কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তার কোনো রূপরেখা কি তাদের আছে?”

তিনি আরও প্রশ্ন করেন, “তাদের দলের কর্মসূচির মধ্যে কি মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়েছে? উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ বেডে উন্নীত করার কোনো লক্ষ্য কি তাদের সামনে আছে? যদি না থাকে, তবে তারা আসলে কিসের রাজনীতি করছে?”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব এবং রাজনীতি তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন সেই দলের কাছে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকে। তিনি বলেন, বিএনপি কেবল ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দেয় না, বরং যা অঙ্গীকার করে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে দেখায়। বর্তমান সরকার নারীদের ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের অর্থনৈতিক সহায়তায় ‘কৃষক কার্ড’ এবং আলেম-ওলামাদের জন্য নিয়মিত সম্মানীর মতো যুগান্তকারী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্যা প্রতিরোধের টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিগত ১৭ বছর যারা জনগণের ওপর স্বৈরশাসন চালিয়ে ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল, সেই অশুভ শক্তি ও নেপথ্যের ‘গুপ্ত’ মহল আজ পুনরায় একজোট হয়েছে। তারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে চলমান জনকল্যাণমুখী সংস্কার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। তিনি দেশবাসীকে এই সুযোগসন্ধানী ও ষড়যন্ত্রকারী মহলের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশ্বস্ত করেন যে, জনগণের প্রত্যক্ষ সমর্থনে গঠিত এই সরকার সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।