শনিবার সকালে ঝিনাইদহ সদরের মুরারীদহ এলাকায় ঐতিহ্যবাহী মিয়ার দালান পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের ডাক বা এক দফার ঘোষণা দিয়েছিলেন নাহিদ ইসলাম। আমরা সেই ঘোষণা স্বীকার করি, তবে মনে রাখতে হবে যে, এই এক দফা ঘোষণার প্রকৃত প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল দেশের সাধারণ জনগণ।
এনসিপির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, ডা. তাসনিম জারাসহ গণতন্ত্র ও প্রগতিশীল চেতনার অনেক নেতা-নেত্রী এনসিপি ছেড়ে চলে গেছেন। এর মূল কারণ হলো, এনসিপি যখন জামায়াতের সঙ্গে মিশে গিয়েছে, তখন আদর্শিক সংঘাতের কারণে এসব তরুণ নেতা-নেত্রী দল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে দেশে এনসিপি বলতে কার্যত কিছু নেই; যা অবশিষ্ট আছে তা জামায়াতের একটি শিশু সংগঠন মাত্র।
গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব দাবি করার বিষয়ে তিনি বলেন, এনসিপি এখন ক্রেডিটবাজিতে লিপ্ত হয়েছে। নাহিদ ইসলাম ও মাহফুজ আলম বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিজেদের এই গণঅভ্যুত্থানের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। রাশেদ খাঁনের দাবি, মাহফুজ আলম মূলত নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের পর তাঁর আসল মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। তিনিই সর্বপ্রথম আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন, যা গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।
নাহিদ ইসলামের পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কথা উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, একসময় নাহিদ ইসলাম জামায়াতকে স্বাধীনতাবিরোধী এবং দেশের সার্বভৌমত্বের শত্রু হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে, তারা জামায়াতের পকেটবন্দি হয়ে পড়েছেন। এমনকি এনসিপির যে সব প্রার্থী নির্বাচন করেছেন, তাদের যাবতীয় নির্বাচনী খরচ বহন করেছে জামায়াত।










