জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণে তৃণমূল পর্যায়ের ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোকে শুদ্ধ নেতৃত্বের আওতায় আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি মনে করেন, দেশের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত মুক্তি ও শান্তি নিশ্চিত করতে হলে নেতৃত্ব পর্যায়ে আমূল পরিবর্তন এবং নৈতিক স্বচ্ছতা প্রয়োজন।

শুক্রবার (০৭ আগস্ট) সকালে পুরানা পল্টনস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নতুন কমিটির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও দলের সহকারী মহাসচিব মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফ সভাপতিত্ব করেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ‘বাংলাদেশে বারবার রক্তক্ষয়ী আন্দোলন হয়েছে। আমাদের বীর জনতা অন্যায়, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বুকচিতিয়ে লড়াই করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত প্রতিটি পরিবর্তনের পর এমন কিছু মানুষ ক্ষমতায় এসেছেন, যারা আগের বন্দোবস্তে এবং আগের পুরনো নিয়মে দেশ পরিচালনা করেছেন। এর ফলে প্রত্যাশিত মুক্তি, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসেনি।’

দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরেও আমরা দেখেছি একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি। আগামীতে এমন পরিস্থিতি আর হতে দেওয়া হবে না। সেজন্য দেশের সব স্তরের ক্ষমতাকে পরিশুদ্ধ আত্মা ও শুদ্ধ চিন্তাধারার মানুষের হাতে নিতে হবে। তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণের তৃণমূলের প্রতিটি ক্ষমতার কেন্দ্র আপনাদের আয়ত্তে নিতে হবে। তবেই এ দেশের মানুষের হাজার বছরের আকাঙ্ক্ষিত শান্তি ও মুক্তি নিশ্চিত হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন দলের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সভাপতি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম এবং ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আরিফুল ইসলাম।

বিশেষ নির্দেশনায় মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সর্বাত্মক অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমাদের পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে হবে এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে। দলের কর্মীদের সমাজের সঙ্গে মিশে যেতে হবে, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্র হয়ে উঠতে হবে এবং যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন জিএম রুহুল আমিন, আলহাজ আনোয়ার হোসেন, আলহাজ এম এইচ মোস্তফা, আলহাজ আব্দুল আউয়াল মজুমদার এবং মাওলানা আব্দুল রাজ্জাক। সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব পেয়েছেন কেএম শরীয়াতুল্লাহ। জয়েন্ট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মুহাম্মাদ ফজলুল হক মৃধা এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন মুফতি আব্দুল আহাদ।

সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নজরুল ইসলাম খোকন, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা কামাল হোসাইন, হাফেজ মাওলানা নাজির আহমাদ শিবলী, টিএম মাহফুজ, হাফেজ সালাহউদ্দীন, মাওলানা তারিক মাসউদ, আলহাজ বেলাল হোসেন আরিফ এবং মুফতি মাওলানা ওমর ফারুক। এছাড়া প্রচার সম্পাদক হিসেবে হাফেজ মাওলানা শফিকুল ইসলাম এবং দপ্তর সম্পাদক হিসেবে মাওলানা গাজী নাজিমুদ্দীন নিযুক্ত হয়েছেন। অর্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুর রহমান এবং প্রশিক্ষণ সম্পাদক হিসেবে হাফেজ মাওলানা ইউসুফ আহমাদ মানসুর।

দাওয়াহ ও জনশক্তি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন মুফতি আল-আমীন আল ইহসান এবং আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে অ্যাডভোকেট ওসমান গণী। ছাত্রী ও মহিলা ইউনিট সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন হাফেজ মাওলানা মাহবুবুর রহমান এবং ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হিসেবে মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক আকন। শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এমদাদুল ফেরদৌস এবং নির্বাচন ও জনপ্রতিনিধি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন মাহবুবুর রহমান নাহিয়ান।

সহ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমান, সহ-দপ্তর সম্পাদক হিসেবে মুহাম্মাদ বিলাল হোসাইন পাটোয়ারী, সহ-অর্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে গাজী মুহাম্মাদ আলী হায়দার, সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক হিসেবে মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মানসুর, সহ-দাওয়াহ ও জনশক্তি সম্পাদক হিসেবে মাওলানা নিজাম উদ্দীন, সহ-ছাত্রী ও মহিলা ইউনিট সম্পাদক হিসেবে মাওলানা মুহাম্মাদ আবু বকর এবং সহ-নির্বাচন ও জনপ্রতিনিধি সম্পাদক হিসেবে মুহাম্মাদ আবু হানিফ নিযুক্ত হয়েছেন।

কমিটির সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছেন ডা. শহিদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মাওলানা এম হাসিবুল ইসলাম, মাওলানা খোরশেদ আলম, প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা, শিব্বির আহমাদ সাব্বির, ইসমাইল হোসেন, এমদাদুল হক, মুফতি মাসউদুর রহমান চাঁদপুরী, মুহাম্মাদ সাইফুর রহমান এবং আরিয়ান মো. ইমন। এছাড়া মহিলা ইউনিট থেকে আরও ২২ জন সদস্যকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।