মাফিকুল ইসলাম,
সীমান্তবর্তী দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে থানা পুলিশ। মাদক কারবারি ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেনের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে পুলিশ।
২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর হাকিমপুর থানায় যোগদানের পর থেকে মাদক-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ৮৬টি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি জাকির হোসেন। এসব মামলায় ৪৫২ জন আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ওসি জাকির হোসেন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে আমরা কাজ করছি। হিলি সীমান্তের খুব কাছাকাছি হওয়ায় এখানে মাদক নিয়ন্ত্রণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমি ও আমার টিম সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখতে হবে।
পুলিশের তথ্যমতে, সীমান্তবর্তী হাকিমপুরের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মাদক পাচার ঠেকানো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এ কারণে মাদকবিরোধী অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, পিপিএম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। মাদক কারবারি, সরবরাহকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
হাকিমপুর থানা পুলিশ বলছে, মাদক নিয়ন্ত্রণে অভিযান ও আইনানুগ কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতাও প্রয়োজন। মাদক সম্পর্কে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।







