গ্যাস ও বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী দাম এবং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদে দেশব্যাপী কঠোর অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। আগামী বৃহস্পতিবার এই কর্মসূচি পালিত হবে বলে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
কর্মসূচি অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি মহানগর ও জেলা শহরের গ্যাস ও বিদ্যুৎ অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন জোটের নেতাকর্মীরা। রাজধানী ঢাকায় এই কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু হবে পল্টনের মুক্তাঙ্গন, যেখানে সকাল ১১টায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু হবে। উক্ত কর্মসূচি শেষে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে সচিবালয়ে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের এক উচ্চপর্যায়ের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকেই দেশব্যাপী অবস্থান কর্মসূচির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
উক্ত বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
বৈঠকে নেতারা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জনজীবনের দুরবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, তীব্র গ্যাস সংকট এবং বিদ্যুতের তথাকথিত ‘ভূতুড়ে বিল’ নিয়ে তাদের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ পায়। তারা বলেন, সাধারণ মানুষ এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে এবং জীবনযাত্রা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জনজীবনের এই চরম দুর্ভোগ লাঘবে সরকারের কার্যকর এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান জোট নেতারা।
এছাড়া বৈঠকে জানানো হয়, আগামী ৫ আগস্ট বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে একটি বিশাল গণসমাবেশের আয়োজন করা হবে। ওই সমাবেশে বর্তমান সংকটের পাশাপাশি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচির দিকনির্দেশনা ঘোষণা করা হবে। তবে এর আগে ৬ আগস্ট দেশব্যাপী বিদ্যুৎ ও গ্যাস অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে জনদুর্ভোগের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।
১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি অবিলম্বে প্রত্যাহার, গ্রাহকদের হয়রানি বন্ধ এবং অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল সংশোধন করতে হবে। একই সঙ্গে জনস্বার্থবিরোধী সকল সিদ্ধান্ত বাতিল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়ে তারা এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।










