গাইবান্ধা সদর উপজেলায় সরকারি নলকূপ স্থাপন কার্যক্রমে পাইপ বিতরণ ও স্থাপন ব্যয় নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি নলকূপের জন্য ২৫০ ফুট প্লাস্টিক পাইপ সরবরাহের কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে ১৬০ ফুট। বাকি পাইপ ও নলকূপ স্থাপনের নামে উপকারভোগীদের কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র।
জানা গেছে, নিরাপদ ও আয়রনমুক্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগের আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দুই শতাধিক নলকূপ বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি নলকূপের বিপরীতে উপকারভোগীদের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে ফি নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি নলকূপের সঙ্গে হেড, পাঁচ ফুট স্টিল পাইপ, ২৫০ ফুট প্লাস্টিক পাইপ ও ফিল্টার পাইপ সরবরাহের কথা। পাশাপাশি অধিদপ্তরের নিয়োগপ্রাপ্ত মেকানিকদের মাধ্যমে নলকূপ স্থাপনের ব্যবস্থা থাকার কথা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ২৫০ ফুটের পরিবর্তে ১৬০ ফুট প্লাস্টিক পাইপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নলকূপ স্থাপনের সময় মিস্ত্রিদের দুপুরের খাবারসহ আপ্যায়নের ব্যয় উপকারভোগীদের বহন করতে বলা হয়। এ ছাড়া কাজ চলাকালে মিস্ত্রিদের খরচ বাবদ এক দিন পরপর ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রের দাবি, এভাবে ১০ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত কাজ চলার পর কোনো কোনো উপকারভোগীকে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। সরকারি প্রকল্পের আওতায় নলকূপ স্থাপন করতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের এ অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আজমীর হোসেনের কাছে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করতে বলেন বলে জানা গেছে।
পরবর্তী সময়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করা হলে তথ্য সরবরাহের জন্য ২০ হাজার ৮৪০ টাকা তথ্য মূল্য বাবদ সরকারি কোষাগারে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে বলে অভিযোগকারী সূত্র জানিয়েছে।
তবে এ বিপুল পরিমাণ তথ্য মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি কী এবং কোন কোন নথি সরবরাহের জন্য এ অর্থ চাওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তথ্য অধিকার আইনের বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত ফি ও তথ্য সরবরাহের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা-ও যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নলকূপ বিতরণে বরাদ্দ, পাইপ সরবরাহ, স্থাপন ব্যয় এবং উপকারভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
















