ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক থেকে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ৭ লাখ টাকা ছিনতাই করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে একটি মাইক্রোবাস থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়, তবে ততক্ষণে দুর্বৃত্তরা তাঁর কাছ থেকে সব টাকা লুটে নিয়ে তাঁকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান (৩২) কম্পিউটার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ এলাকার সেকেন্দার শেখের ছেলে। জানা গেছে, রবিবার দুপুর ১টার দিকে মেহেদী হাসান পূবালী ব্যাংকের ভাঙ্গা শাখা থেকে ৭ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। এরপর অটোরিকশায় করে সেই টাকা নিয়ে তিনি তাঁর গন্তব্য হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজরাহাটি মহল্লার চারা বটতলা এলাকায় একটি মাইক্রোবাস তাঁর গতিরোধ করে।
মেহেদী হাসানের দাবি, মাইক্রোবাসে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেয়। গাড়িতে তোলার পরপরই তাঁর মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় এবং অমানুষিক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তাঁর কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং তাঁকে মাস্ক পরিয়ে অচেতন করে ফেলে। এরপর তাঁকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের আজিমনগর ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় সড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অপরাধীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা হাত বাঁধা ও অচেতন অবস্থায় মেহেদী হাসানকে উদ্ধার করেন। তাঁর মাথায় পানি ঢালার পর জ্ঞান ফিরলে দ্রুত তাঁকে চিকিৎসার জন্য ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পূবালী ব্যাংক ভাঙ্গা শাখার ব্যবস্থাপক দেবাশীষ বোস বলেন, ‘মেহেদী হাসান দুপুর ১টার দিকে আমাদের ব্যাংক থেকে ৭ লাখ টাকা উত্তোলন করেছিলেন। পরে জানতে পারি, ব্যাংক থেকে যাওয়ার পথে মহাসড়কে তাঁকে গাড়িতে তুলে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।’
অন্যদিকে, ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা মো. সোহাগ মিয়া জানান, ‘মেহেদী হাসান নামে এক ব্যক্তি রবিবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। তাঁর চিকিৎসা চলাকালীন রাত ৯টার দিকে পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে গেছে।’
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জানান, ‘মেহেদী হাসানকে থানায় আনা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে পুরো ঘটনার বিবরণ শোনা হয়েছে। পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং অপরাধীদের ধরতে চেষ্টা করা হচ্ছে।’





















