চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার এক ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর অদ্ভুত কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মোবাইল ফোন ব্যবহারের জন্য বাবা-মায়ের কাছে বায়না ধরালেও তা পূরণ না হওয়ায়, এমনকি মারধরের অভিযোগ তুলে রাতে একাই থানায় হাজির হয়েছে ওই শিক্ষার্থী। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে।
জানা গেছে, শিক্ষার্থী আলামিন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের মহনপুর গ্রামের বাসিন্দা। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। আলামিনের দাবি, সে দীর্ঘদিন ধরে একটি মোবাইল ফোন ব্যবহারের জন্য তার বাবা-মায়ের কাছে আবদার করছিল। কিন্তু চাহিদামতো মোবাইল ফোন না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার মনোমালিন্য চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। একপর্যায়ে প্রচণ্ড অভিমান থেকে সে রাতের আঁধারে একাই হাজীগঞ্জ থানায় পৌঁছে যায় এবং বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ দায়ের করে।
রাত ১০টার দিকে আলামিন থানায় উপস্থিত হলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি দেখে অবাক হয়ে যান এবং বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) জহির হোসেন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন এবং পুরো ঘটনাটি বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেন। আলামিনের কথা শুনে পুলিশ বুঝতে পারে যে, এটি মূলত একটি পারিবারিক বিষয় এবং শিশুটি প্রচণ্ড অভিমান করে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে।
এসআই জহির হোসেন জানান, শিশুটি মূলত অভিমান করেই বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় এসেছিল। পুলিশ তাকে শান্তভাবে বুঝিয়ে বলে এবং পরে তার বাবা-মাকে থানায় ডেকে আনে। এরপর পুলিশি উপস্থিতিতে আলামিন ও তার বাবা-মায়ের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় পুলিশ তাকে ও তার পরিবারকে বোঝায় যে, পারিবারিক যেকোনো সমস্যা বা মতপার্থক্য যেন ভালোবাসা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা হয়।
তিনি আরও বলেন, “একটি ছোটখাটো বিষয়কে কেন্দ্র করে শিশুর মনে যেন কোনো দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়েও আমরা তার বাবা-মাকে বিশেষভাবে সতর্ক করেছি।” পুলিশের পরামর্শ ও আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা হওয়ার পর আলামিনকে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে নিরাপদে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
















