গ্রেপ্তার চার নেতার নিঃশর্ত মুক্তি, ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ এবং পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক চালকরা। সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রিকশা ও ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে চালকদের হাতে ভাত দে, কাপড় দে, নইলে অটো চলতে দে লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে দাবি আদায়ের আহ্বান জানান।

সমাবেশ থেকে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। তাদের অভিযোগ, অটোরিকশায় চার্জ দেওয়ার গ্যারেজগুলোতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত চালকদের হয়রানি করছে এবং অটোরিকশা আটক করে ডাম্পিংয়ে পাঠাচ্ছে। চালকদের দাবি, একটি রিকশা আটক করা হলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করে মামলা দেওয়া হচ্ছে, যা তাদের জন্য বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সোমবার সকালে প্রেস ক্লাবের সামনের সড়ক অবরোধের পর বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে দৈনিক বাংলা মোড়ে যান চালকরা। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রিকশা-ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি এস এম আবুবকর সিদ্দিক। তিনি বলেন, আমরা দেশ পরিচালনায় সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু আগামী তিন কার্যদিবস তথা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিনা দোষে শাস্তি পাওয়া আমাদের চার নেতাকে নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে এবং অন্যায়ভাবে রিকশা উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ না হলে আরও কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে। দাবি না মানলে যে কর্মসূচি আসবে, তা ঠেকানোর ক্ষমতা কারও থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শাহীন বেপারী নামের এক রিকশাচালক দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও নাগরিক সুবিধার সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশে গ্যাস, তেল, পানি নাই, সবই কি অটোতে খেয়েছে? আগের সরকারের সময় পানি, গ্যাস, কারেন্ট সব ছিল, জিনিসের দামও কম ছিল। আর এখন সব জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সড়ক না ছাড়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ১ অক্টোবর দুপুরে ব্যাটারিচালিত রিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের চার নেতাকে আটক করে গ্রেপ্তার দেখায় সবুজবাগ থানা পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন সবুজবাগ থানা কমিটির সভাপতি আকবর, তার ছেলে ইয়াসিন, সেন্টু এবং রহিম মহাজন। মূলত এই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদেই রাস্তায় নেমেছেন চালক ও শ্রমিকরা। এদিকে এই অবরোধের কারণে সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশা চলাচল মারাত্মকভাবে কমে যায়। রামপুরা, বাড্ডা, মালিবাগ, খিলগাঁও, মতিঝিল, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় অটোরিকশার সংখ্যা ছিল একেবারেই নগণ্য। ফলে সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।