বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) একাদশ ও দ্বাদশ আসর ঘিরে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ম্যাচের ফলাফল কিংবা খেলার গতিপথ অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং বিসিবির দুর্নীতিবিরোধী বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে কঠোর শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিসিবি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি জানিয়েছে।
বিসিবির তদন্তের আওতায় আসা অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন—বিপিএলের দ্বাদশ আসরে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সাবেক মালিক মো. আবদুল কাইয়ুম রাশেদ এবং একাদশ আসরে দুর্বার রাজশাহী ও দ্বাদশ আসরে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সাবেক দলীয় কর্মকর্তা মো. আমিন খান। বিসিবির বিশেষ তদন্তকারী দল ‘ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের’ দীর্ঘ তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির ২০২৪ সালের দুর্নীতিবিরোধী বিধির বিভিন্ন ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও সততার জন্য হুমকিস্বরূপ।
বিসিবির বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, কাইয়ুম রাশেদের বিরুদ্ধে ম্যাচের চূড়ান্ত ফল, খেলার অগ্রগতি অথবা অন্য কোনো বিশেষ দিক অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা কিংবা এ ধরনের কোনো গোপন সমঝোতার সঙ্গে যুক্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, তিনি দুর্নীতির প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি যথাসময়ে বোর্ডকে অবহিত না করার অপরাধেও অভিযুক্ত। তদন্ত চলাকালে তিনি যথাযথ সহযোগিতা না করা এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য তার প্রধান মোবাইল ফোনটি জমা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আমিন খানের বিরুদ্ধেও ম্যাচের ফলাফল বা গতিপথ অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি অন্য কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতির পথে প্রলুব্ধ করতে উৎসাহিত করেছেন অথবা সহায়তা করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না করা এবং তদন্তের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এমন যোগাযোগ মাধ্যম, নথি বা তথ্য গোপন কিংবা ধ্বংস করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিসিবি আরও জানিয়েছে, অভিযোগের আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাওয়ার পর অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য লিখিত জবাব দেওয়ার ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তাদের ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে। একই সঙ্গে, শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ওপর আরোপিত সাময়িক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এই মুহূর্তে আর কোনো মন্তব্য করবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে বিসিবি।
















