মাফিকুল ইসলাম,

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে কাজ ফিরে পাওয়ার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ১৬৮ শ্রমিক। সাব-কন্ট্রাক্টরের অধীনে ভূগর্ভস্থ টানেল নির্মাণের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তাদের কর্মস্থলে যোগদানে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। এ ঘটনায় শনিবার থেকে খনি এলাকায় বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

শ্রমিকদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে তারা বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন। হঠাৎ করে কাজে যোগ দেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের পরিবারে আর্থিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পূর্বঘোষণা ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

সোমবার খনি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকের সামনে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে অবস্থান করছেন। তারা কর্মস্থলে পুনর্বহাল এবং চাকরির নিশ্চয়তার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে খনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও দেখা গেছে।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের ভাষ্য, প্রায় আট বছর আগে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে ভূগর্ভস্থ টানেল নির্মাণের কাজে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এ কাজে প্রধান চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সিএমসি-এক্সএমসি’ কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে তারা যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাদের একটি অংশ ‘জেএসএমই’ নামের সাব-কন্ট্রাক্টরের অধীনে কাজ করেন।

তারা জানান, ২০২২ সালে পেট্রোবাংলার সঙ্গে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির ২০২৭ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়। ওই সময় টানেল নির্মাণের কাজে নিয়োজিত ১৬৮ শ্রমিকও কাজ চালিয়ে যান।

সম্প্রতি টানেল নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার পর তাদের আর কাজে রাখা হচ্ছে না বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প কাজে নিয়োগ অথবা পুনর্বহালের ব্যবস্থা করা হোক।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, দ্রুত তাদের কর্মস্থলে ফিরিয়ে নেওয়া না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করা হবে। প্রয়োজনে কঠোর কর্মসূচি পালন করবেন তারা।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, “এই শ্রমিকরা মূল চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সিএমসি-এক্সএমসি’র সাব-কন্ট্রাক্টর ‘জেএসএমই’র মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। ফলে সরাসরি এ বিষয়ে খনি কর্তৃপক্ষের আইনি সুযোগ সীমিত।”

তিনি আরও বলেন, “শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে আমরা সহানুভূতিশীল। জটিলতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট উভয় পক্ষের সঙ্গে খনি কর্তৃপক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।”

শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়ে চলমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান চান আন্দোলনকারীরা। অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে খনি কর্তৃপক্ষ।