দেশের চা শ্রমিকদের প্রতিকূল আবহাওয়ায় কাজ করার কষ্ট লাঘবে এক মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। প্রথম পর্যায়ে ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের সূচনা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের মোট ১ লাখ ৩০ হাজার নিবন্ধিত চা শ্রমিকের প্রত্যেকের কাছে রেইনকোট পৌঁছে দেওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকের পর সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এই বিষয়ে বিস্তারিত জানান। মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশ এবং অনুপ্রেরণায় সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ অঞ্চলের চা শ্রমিকদের জন্য এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে, যখন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারে সোলার কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। সে সময় সেখানে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রী খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেন যে, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও চা শ্রমিকেরা অত্যন্ত নিদারুণ কষ্টের মধ্য দিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে চা পাতা সংগ্রহ করছেন। শ্রমিকদের এই কষ্ট দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের জন্য রেইনকোট প্রদানের নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী অধ্যাপক জাহিদ হোসেন আরও জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সক্রিয় সহযোগিতায় প্রাথমিকভাবে এই ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ করা হচ্ছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই নির্ধারিত চা বাগানগুলোতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং চা শ্রমিক সংগঠনের মাধ্যমে সরাসরি শ্রমিকদের হাতে এই রেইনকোটগুলো পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, "আমাদের দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৩০ হাজার নিবন্ধিত চা শ্রমিক রয়েছেন। আমাদের লক্ষ্য হলো এই প্রত্যেকের কাছে রেইনকোট পৌঁছে দেওয়া। আজ ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণের মাধ্যমে আমরা সেই মহৎ যাত্রার সূচনা করেছি।"
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন এবং কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেইনকোট ব্যবহারের ফলে শ্রমিকরা বৃষ্টি থেকে নিরাপদ থাকবেন, যা তাদের অসুস্থতার ঝুঁকি কমাবে এবং তারা আরও সুস্থভাবে তাদের দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।
এই মানবিক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক জাহিদ হোসেন সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং চা বাগান মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে তাদেরও উচিত চা শ্রমিকদের কল্যাণে এ ধরনের সহায়ক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
উল্লেখ্য যে, এই রেইনকোট বিতরণ কর্মসূচি সফল করতে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর (CSR) কার্যক্রমের আওতায় বেশ কিছু স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক গ্যাস উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান শেভরন, পোলার আইসক্রিমের জন্য পরিচিত পান্ডুঘর গ্রুপ এবং বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি।
পরিশেষে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই অনুপ্রেরণাকে সামনে রেখে আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যক চা শ্রমিকের মাঝে রেইনকোট বিতরণ করা সম্ভব হবে, সেই লক্ষ্যে সবাইকে একসাথে কাজ করার এবং দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।








