রাজধানীর বংশাল এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক বছর পর এক কিশোরীকে উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। নিখোঁজ ওই কিশোরীর বয়স ১৫ বছর। ডিএমপির বংশাল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বিত সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঢাকার শাহ আলী থানার একটি বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। আজ বুধবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আকতার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সফল উদ্ধার অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে লালবাগ ও বংশাল সংলগ্ন নিজ বাসা থেকে বেরিয়ে যায় ওই কিশোরী। এরপর থেকে সে আর পরিবারের কাছে ফিরে আসেনি এবং তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। মেয়ের আকস্মিক নিখোঁজ হওয়ার পর চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন পার করেন তার অভিভাবকরা। ঘটনার পরদিন কিশোরীর বাবা বংশাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। এরপর থেকেই ডিএমপির বংশাল থানা পুলিশ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে তদন্তের আওতায় রাখে এবং দীর্ঘ সময় ধরে তার সম্ভাব্য অবস্থান খোঁজার চেষ্টা অব্যাহত রাখে।
বংশাল থানা পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তারা দীর্ঘ অনুসন্ধান এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে জানতে পারেন যে, নিখোঁজ মেয়েটি রাজধানীর শাহ আলী থানা এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শাহ আলী এলাকার একটি বাসায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার পরবর্তী যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর পুলিশ দ্রুততার সাথে কিশোরীকে তার পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করেছে।
নিখোঁজ কিশোরীর প্রায় এক বছর ধরে আত্মগোপনে থাকার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে স্পষ্ট করেছেন বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে দেখা গেছে—মেয়েটিকে কেউ অপহরণ করেনি, বরং সে নিজেই স্বেচ্ছায় বাসা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ এই সময় সে মিরপুর এলাকায় তার এক বন্ধুর সঙ্গে অবস্থান করছিল। নিখোঁজ থাকার পুরো সময়ে ওই কিশোরী কোনো মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করেনি, যার ফলে পুলিশ এতদিন তার অবস্থান ট্র্যাক বা শনাক্ত করতে সক্ষম হয়নি। সম্প্রতি একটি ডিভাইস চালু করার পরপরই পুলিশি নজরদারির মাধ্যমে তার সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হয় এবং দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।
















