চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় এক রোমাঞ্চকর ও ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইল চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়ক। চলন্ত প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে ফিল্মি কায়দায় অতর্কিত গুলিবর্ষণের এক চেষ্টা চালানো হয়েছে, যেখানে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন ব্যবসায়ী এস এম শহীদুল্লাহ রনি। ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক বিরোধ এবং পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে। উপজেলার মেখল ইউনিয়নের ইছাপুর চারাবটতল এলাকায় যখন এস এম শহীদুল্লাহ রনি তার প্রাইভেটকার নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই এই দুঃসাহসিক হামলার শিকার হন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বুধবার (২৯ জুলাই) হাটহাজারী থানায় একটি আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী এস এম শহীদুল্লাহ রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াহেদীখীল এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতা এস এম শফির পুত্র এবং রাউজান এলাকায় তার একাধিক ইটভাটার ব্যবসা রয়েছে। পুলিশ ও ভুক্তভোগীর দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে তিনি চট্টগ্রাম শহর থেকে রাউজানের নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। সাধারণত তার সাথে একজন চালক থাকে, কিন্তু ওই রাতে তিনি নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন।
গাড়িটি যখন মেখল ইউনিয়নের ইছাপুর চারাবটতল এলাকায় পৌঁছায়, তখন একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত আচমকাই তার গাড়ির সামনে এসে গতিরোধ করার চেষ্টা করে। মুহূর্তের মধ্যে তারা গাড়ির লক্ষ্য করে ইট ও পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এরপর তারা একে একে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলির বিকট শব্দে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে আসেন, কিন্তু ততক্ষণে হামলাকারীরা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে এলাকা ত্যাগ করে। যদিও এই ঘটনায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কিভাবে রক্ষা পেলেন, সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ব্যবসায়ী এস এম শহীদুল্লাহ বলেন, "সাধারণত আমার চালক গাড়ি চালায় এবং আমি পেছনের সিটে বসি। কিন্তু গতকাল রাতে আমি নিজেই স্টিয়ারিং ধরেছিলাম। দুর্বৃত্তরা যখন ইট ছুড়তে শুরু করল, আমি দ্রুত বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে গাড়ির হেডলাইট নিভিয়ে দিই। চারদিক অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় তারা বুঝতে পারেনি যে আমিই গাড়ি চালাচ্ছি। তারা ভেবেছিল আমি পেছনের সিটেই বসে আছি, তাই তারা গাড়ির পেছনের অংশ লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ফলে গুলিগুলো গাড়ির পেছনের অংশে লাগলেও আমি অলৌকিকভাবে অক্ষত থেকেছি।"
তিনি আরও জানান, ব্যবসায়িক লেনদেন ও স্বার্থের সংঘাত নিয়ে বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। এর আগেও আমান বাজারে তার নিজ বাসভবনে হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা তাকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে রাখছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান জানান, ভুক্তভোগীর আবেদনের প্রেক্ষিতে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজ বলেন, "ভুক্তভোগী আমাদের জানিয়েছেন যে কিছু লোকের সঙ্গে তার পূর্বশত্রুতা ও ব্যবসায়িক বিরোধ রয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"











