বাংলাদেশ সরকার নেপালের উত্তরাঞ্চলে সম্প্রতি আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১০ লাখ মার্কিন ডলারের একটি জরুরি অনুদান প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই সহায়তার পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। বুধবার সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকা ও কাঠমান্ডুর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে দুর্যোগকবলিত নেপালের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে এই আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি অর্থবছরের বিশেষ বরাদ্দ থেকে এই অর্থ প্রদানের প্রস্তাবনা পেশ করেছে। বর্তমানে এই অনুদানের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
নেপাল-তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন দুর্গম এলাকায় ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে। নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের পর এখন পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ১ হাজার ১১৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৯১৬ জন। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব নেপালের পাশাপাশি চীনের অংশেও মারাত্মকভাবে পড়েছে। সেখানে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪৬ জন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে।
বর্তমানে ওই অঞ্চলে উদ্ধার অভিযান এবং ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি খাদ্য, ওষুধ ও বাসস্থানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এমন এক সংকটময় পরিস্থিতিতে নেপালের জন্য আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সরকারের এই অনুদান চূড়ান্ত অনুমোদনের পর দ্রুত নেপালের দুর্যোগকবলিত মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর প্রাথমিক পুনর্বাসনে ব্যবহৃত হবে।
















