এম এ এহসান রিয়াজ
জাতীয় সংসদের হুইপ ও লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেছেন,“আমি এমপি হই কিংবা মন্ত্রী হই এতে কোনো লাভ হবে না, যদি আমার রামগতি ও কমলনগরের মানুষকে সেই সুফল না দিতে পারি। তাঁদের স্বাস্থ্যের সফলতা, শিক্ষার সফলতা, কর্মের সফলতা ও নৈতিকতার সফলতাই আমার সূল লক্ষ্য। আর মানুষের নৈতিকতার উন্নয়ন ঘটানোই সবচেয়ে বড় সফলতা।”
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে কমলনগর উপজেলার নাছিরগঞ্জ বালুর মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাজিরগঞ্জ ওয়ারিয়াস ক্লাব এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করে।
হুইপ নিজান বলেন, “‘উনি এই, উনি সেই, উনি আপোষহীন কিংবা তারুণ্যের অহংকার’ এসব তকমা দেশের মানুষ এখন আর পছন্দ করে না। সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে আমাকে প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন কেবল তাঁদের সেবা করার জন্য। আমি যদি মানুষের জন্য প্রকৃত কাজ করতে না পারি, তবে নেতাকর্মীরা যতই আমাকে নেতা বলুক না কেন, তাতে কোনো লাভ নেই। গ্রামের মেহনতি কৃষক, শ্রমিক কিংবা রিকশাচালক যদি আমাকে মন থেকে নেতা হিসেবে মেনে না নেন, তবে কারো প্রশংসায় আমি নেতা হতে পারব না। তাই আমাদের চিন্তাভাবনা, কথাবার্তা ও চালচলনে আমূল পরিবর্তন আনা জরুরি। আর এই ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হলো আমাদের যুবসমাজ।”
তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে যাতে যুবসমাজ নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ পায়। শুধু ফুটবল নয়, আমাদের ঐতিহ্যবাহী দেশীয় খেলা- যেমন গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্দা ও হা-ডু-ডুর টুর্নামেন্ট ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।
তরুণদের অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের অপকারিতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বর্তমানে তরুণদের মধ্যে মোবাইলের প্রতি যে আসক্তি তৈরি হয়েছে, তা ইয়াবার চেয়েও মারাত্মক ও ভয়াবহ। অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায় এবং মস্তিষ্কের নিউরনের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়। ফোনের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তরঙ্গ যেভাবে সিগন্যালে ব্যাঘাত ঘটায়, ঠিক তেমনি তা মানুষের মস্তিষ্কেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।”
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপর জোর দিয়ে আশরাফ উদ্দিন নিজান আরও বলেন, “মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের শরীরকে এক অদ্ভুত নিয়মে সৃষ্টি করেছেন। আমাদের ভুল জীবনযাত্রার কারণে শরীরে ‘ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া’ সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা ডায়াবেটিস, ক্যানসার, হৃদরোগ, লিভার ও নিউরোলজিক্যাল সমস্যার মতো জটিল রোগের জন্ম দেয়। কিন্তু আমরা যদি নিয়ম মেনে চলি—সূর্যোদয়ের সাথে ঘুম থেকে ওঠা, সন্ধ্যার পর পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া, পরিমিত আহার করা এবং রাত ১০টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া—তবে শরীরের ‘উপকারী ব্যাকটেরিয়া’ বা গুড ব্যাকটেরিয়া এসব রোগব্যাধিকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়।”
জনসচেতনতামূলক এই পরামর্শের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “অনেকে হয়তো ভাবতে পারেন আমি রাজনীতির বাইরে গিয়ে এসব কথা কেন বলছি। কিন্তু জনগণকে সচেতন করাই আমার মূল দায়িত্ব। আমি বারবার এ কথা বলব। আমার এই পরামর্শ শুনে আজ যদি অন্তত দুজন মানুষও নিজেদের জীবনযাত্রা বা লাইফস্টাইল পরিবর্তন করে সুস্থ থাকেন, তবেই জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার রাজনীতি সার্থক হবে।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম দিদার হোসেন,মার্টিন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা.আলী আহাম্মদ সহ বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
















