হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং কর্তব্যরত একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বর্ণিত বিস্তারিত ঘটনা অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে মদিনা থেকে আগত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের (বিজি-৩৩৮) যাত্রীদের ব্যাপক চাপের কারণে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি সংকটের সৃষ্টি হয়। এর ফলে যাত্রীরা তাদের লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় বিমানবন্দরের ভেতরে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে যে, গ্রুপ ক্যাপ্টেন সামাদ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করার সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের একটি অত্যন্ত সংরক্ষিত এবং স্পর্শকাতর এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। সেখানে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের ভিডিও ধারণ করতে নিষেধ করলে, আখতারুজ্জামান ও তার সহযোগীরা তাকে গালিগালাজ করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া, সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে থাকা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী ও উস্কানিমূলক আচরণের অভিযোগও মামলার এজাহারে আনা হয়েছে।

মামলার এজাহারে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এসব অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিমানবন্দরের মতো একটি অতি সংবেদনশীল ও সংরক্ষিত স্থাপনায় সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে, যা বিমানবন্দরের সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মারাত্মক আশঙ্কা তৈরি করেছে। উল্লেখ্য যে, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২০২২ সালে তাকে পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।