এম এ এহসান রিয়াজ
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে শশুরবাড়ি থেকে মো. জুয়েল (২৭) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহটির কোমর মাটির সাথে স্পর্শ করে থাকায় ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াসা।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার চর ফলকন ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আবু তাহেরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জুয়েল ঢাকার বিক্রমপুর এলাকার আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের পিতা ছিলেন।
খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।পরে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালেে মর্গে প্রেরণ করে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে পারিবারিকভাবে কমলনগর উপজেলার আবু তাহেরের মেয়ে সুরমা বেগমের সাথে ঢাকার বিক্রমপুর এলাকার জুয়েলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা ঢাকায় বসবাস করলেও দুই বছর আগে স্ত্রীর ইচ্ছেতে জুয়েল শশুরবাড়িতে এসে থাকা শুরু করেন। এখানে এসে ঋণ নিয়ে একটি অটোরিকশা কিনে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। অভিযোগ উঠে, স্বামী জুয়েলের সারাদিনের উপার্জিত সব টাকা স্ত্রী সুরমা বেগম নিয়ে নিতেন এবং টাকার জন্য সব সময় চাপ সৃষ্টি করতেন। টাকা সামান্য কম হলেই তাদের মধ্যে ঝগড়া-মারামারি হতো।
স্থানীয় দোকানদার মো. বেলাল জানান, "ঘটনার আগে রাত ১২টার দিকে জুয়েল দোকানে রিচার্জ করতে এসে খুব বিমর্ষ অবস্থায় ছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, স্ত্রীর কাছে তার অনেক টাকা জমা রয়েছে। স্ত্রী তার সাথে খুব জামেলা করছে। ছেলেটি খুবই ভালো ও ভদ্র স্বভাবের ছিলো।"
এদিকে একমাত্র ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন নিহতের মা জোসনা বেগম ও বাবা আবু বকর ছিদ্দিক। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জোসনা বেগম বলেন, স্ত্রীর যাতনাতেই আমার ছেলে ঢাকা ছেড়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে উঠেছিলো। বেশি টাকা দিতে না পারলেই আমার ছেলের ওপর নির্যাতন চালানো হতো। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জুয়েল আমাকে ফোন করে বলে, 'মা, বউ ও তার পরিবার আমার ওপর অত্যাচার করছে, তোমার সাথে হয়তো আর কথা হবে না।'
আমি তাকে বলেছি বাবা ধৈর্য ধরো।আমি সকালে ঢাকা থেকে তোমার কাছে আসবো। তার আগেই ছেলে চলে গেলো।তিনি আরো বলেন, ছেলের উপার্জিত টাকা আত্মসাৎ করতেই স্ত্রী ও তার পরিবার এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি এ ঘটনার জন্য ছেলের স্ত্রী ও তার পরিবারকে দায়ী করে তাদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে স্ত্রী সুরমা বেগম দাবি করেন, "রাতে ঘরে এসে জুয়েল মেয়েকে মারধর করেছে। আমাকেও মারার জন্য খুঁজতে থাকে। তখন ভয়ে সন্তানদের নিয়ে আমি পাশে আমার বাবার ঘরে চলে যাই।সেখানে ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে উঠে দেখি আত্মহত্যা করেছে। সে নেশাগ্রস্ত ছিল।"
কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরিদুল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
















