মোঃ আসিফ ইসলাম সাইফ
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা দুগ্ধদানকারী মা ও শিশুদের বিশেষ সুবিধার্থে একটি সুসজ্জিত ও আধুনিক ব্রেস্টফিডিং কর্নার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর ১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান ফিতা কেটে এই বিশেষ কর্নারটির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নাদিমুল ইসলাম এবং আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হোসেন (সবুজ)। এছাড়া বাঘাইছড়ি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনসহ হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মায়েরা যাতে জনসম্মুখে শিশুকে দুধ খাওয়ানোর সময় কোনো ধরনের অস্বস্তি, জড়তা বা সামাজিক সংকোচের সম্মুখীন না হন এবং একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবেশে সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ পান করাতে পারেন— সেই লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে দূরদূরান্ত থেকে আসা মায়েরা যাতে এখানে এসে স্বস্তিবোধ করেন এবং নিরাপদ পরিবেশ পান, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নাদিমুল ইসলাম বলেন, “মা ও শিশুর সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাতৃদুগ্ধের কোনো বিকল্প নেই। এই ব্রেস্টফিডিং কর্নারটি চালু হওয়ার ফলে হাসপাতালে দীর্ঘ সময় অপেক্ষারত দুগ্ধদানকারী মায়েদের শারীরিক ও মানসিক ভোগান্তি অনেকাংশে হ্রাস পাবে। একই সাথে, সময়মতো শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পান করাতে মায়েরা আরও উৎসাহিত হবেন, যা নবজাতকের পুষ্টি ও সঠিক বিকাশে সহায়ক হবে।” তিনি এই মহতী উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজানকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও ভূয়সী প্রশংসা জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান তার বক্তব্যে বলেন, “হাসপাতালের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জনবহুল স্থানে একটি নির্দিষ্ট ও নিরাপদ ব্রেস্টফিডিং কর্নার থাকা অত্যন্ত জরুরি। এ উদ্যোগের ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মায়েরা এখন আরও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ পান করাতে পারবেন, যা মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আমরা চাই প্রতিটি মা যেন তার সন্তানকে নিরাপদ পরিবেশে পুষ্টি প্রদান করতে পারেন।”









