অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এক অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক জয় অর্জনের পরপরই উচ্ছ্বসিত হয়ে ক্রিকেটারদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যখন এই গৌরবময় মুহূর্তটি উদিত হয়, তখন তিনি সরকারি কর্মসূচলায় কিশোরগঞ্জের পথে ছিলেন। তবে কর্মব্যস্ততার মাঝেও দেশের এই অভাবনীয় সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত প্রধানমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ ভিডিও কলের মাধ্যমে দলের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত হন এবং তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
এই বিশেষ ভিডিও কলে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালসহ দলের প্রধান ক্রিকেটাররা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিসিবি সভাপতির এক বিশেষ কথোপকথন বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে দলের প্রতিটি সদস্যের প্রতি গভীর শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা পৌঁছে দেন। তিনি বিশেষ করে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য নাজমুল হোসেন শান্ত, হাসান মাহমুদ এবং তানজিদ হাসানের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের প্রশংসা করেন।
কথোপকথনের এক পর্যায়ে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ক্রিকেটারদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ক্রিকেটার তানজিদ হাসান—উভয়েরই আদি নিবাস বগুড়ায়। এই বিষয়টি উল্লেখ করে তামিম ইকবাল বলেন, ‘ও তানজিদ হাসান, বগুড়ার ছেলে, সেঞ্চুরি করেছে।’ তবে এই মন্তব্যের পরপরই প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সুন্দরভাবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিসিবি সভাপতিকে সংশোধন করে দেন। তিনি বলেন, ‘বগুড়ার না, ও বাংলাদেশের ছেলে। সে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে, বগুড়াকে নয়।’ প্রধানমন্ত্রীর এই কথাটি জাতীয় সংহতি এবং দেশপ্রেমের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা খেলোয়াড়দের মনে দেশাত্মবোধের নতুন প্রেরণা জোগাবে এবং প্রমাণ করবে যে জাতীয় পতাকার নিচে সবাই সমান।
খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার খোঁজ নিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে অপেক্ষা করছি আপনাদের স্বাগত জানানোর জন্য। সবার শরীর ভালো আছে তো? দীর্ঘ সফরের পর একটু ক্লান্তি হবে, যা অত্যন্ত স্বাভাবিক। ওখানে আবহাওয়া কেমন? গরম কি দেশের মতো ভালো? আপনারা সুস্থভাবে দেশে ফিরে আসুন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আপনাদের বরণ করে নেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।’ তার এই আন্তরিক কথাগুলো ক্রিকেটারদের মাঝে স্বস্তি ও অনুপ্রেরণা ছড়িয়ে দেয়।
অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে এই জয়কে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা এবং অত্যন্ত গৌরবের বলে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মনে করেন, দলের খেলোয়াড়দের দৃঢ় মনোবল, অটুট আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিগত দক্ষতা এবং সম্মিলিত দলগত প্রচেষ্টার ফলেই এই অসাধারণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সরকার প্রধান বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী টেস্ট ম্যাচেও বাংলাদেশ একইভাবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স বজায় রাখবে এবং সিরিজ জয়ের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে এবারের জয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার, কারণ টেস্ট র্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে হারিয়ে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এই জয় কেবল একটি ম্যাচের জয় নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের সক্ষমতার এক বলিষ্ঠ প্রমাণ এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।







