বদনজর থেকে শিশুদের রক্ষায় মহানবী (স.) যে দোয়া পড়ে ফুঁ দিতেন

ছোট শিশুদের কোলে নিয়ে দোয়া পড়ে ফুঁ দেওয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত। হাদিসের গ্রন্থসমূহে এ সংক্রান্ত বহু দোয়া বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে হজরত হাসান ও হুসাইন (রা.)-কে নবীজি (স.) নির্দিষ্ট বাক্যের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করতেন। সেই দোয়াটি হলো—

أُعِيْذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَّهَامَّةٍ وَّمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ

উচ্চারণ: উয়িযুকুমা বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিন ওয়া হাম্মাতিন ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাতিন।

অর্থ: সকল শয়তান, ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ও বদনজর থেকে তোমাদেরকে আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালেমাসমূহের আশ্রয়ে দিচ্ছি।

নবীজি (স.) বদনজরের অস্তিত্ব সত্য বলে উল্লেখ করেছেন এবং তা থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে বলেছেন। তিনি বলেন, তোমরা বদনজরের প্রভাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো। কেননা নজরের প্রভাব সত্য। (ইবনে মাজাহ: ৩৫০৮)

পবিত্র কোরআনেও কয়েক স্থানে বদনজরের ইঙ্গিত রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, কাফেররা যখন উপদেশবাণী শোনে, তখন তারা যেন তাদের দৃষ্টির মাধ্যমে তোমাকে আছড়ে ফেলবে, আর তারা বলে, এ তো এক পাগল। (সুরা কলম: ৫১)

আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) এই আয়াতের তাফসিরে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, এখানে তাদের দৃষ্টির মাধ্যমে তোমাকে আছড়ে ফেলবে বলতে উদ্দেশ্য হলো, তোমার প্রতি তারা বদনজর দেবে। তারা হিংসার প্রতিফলন ঘটিয়ে তোমাকে অসুস্থ করে দেবে, যদি তোমার প্রতি আল্লাহর হেফাজত না থাকে। এই আয়াত প্রমাণ করে, বদনজরের কুপ্রভাবে মানুষ সত্যিই অসুস্থ হয়ে পড়ে। (তাফসিরে ইবনে কাসির: ৪/৪১০)

বদনজর থেকে বাঁচার আমল সম্পর্কে হজরত আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, একবার রাসুলুল্লাহ (স.) কোনো এক রোগে আক্রান্ত হন। তখন জিবরাইল (আ.) এসে জিজ্ঞেস করলেন, হে মুহাম্মদ, আপনি কি অসুস্থতা বোধ করছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন জিবরাইল (আ.) এই দোয়া পড়লেন—

بِاسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আরকিকা মিন কুল্লি শাইয়িন ইউজিকা মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আউ আইনিন হাসিদিন, আল্লাহু ইয়াশফিকা বিসমিল্লাহি আরকিকা।

অর্থ: আল্লাহর নামে আপনাকে ফুঁ দিচ্ছি। যেসব জিনিস আপনাকে কষ্ট দেয়, সেসব প্রাণের অনিষ্ট কিংবা হিংসুকের বদনজর থেকে আল্লাহ আপনাকে শিফা দিন। আল্লাহর নামে আপনাকে ফুঁ দিচ্ছি। (মুসলিম: ৫৫১২)

আলেমদের মতে, এই দোয়াটি পড়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বারবার ফুঁ দিলে ইনশাআল্লাহ ধীরে ধীরে বদনজরের প্রভাব কেটে যাবে। ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এই আমলটি বিশেষভাবে উপকারী ও পরীক্ষিত।