ইনকিলাব মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত মুখ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রক্রিয়ায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতির ফসল। হত্যাকাণ্ডের আগে শরীফ ওসমান হাদির গতিবিধির ওপর সতর্ক নজরদারি, নিখুঁত হামলা পরিকল্পনা, অস্ত্র সংগ্রহ, সহযোগীদের সমন্বয় এবং অপরাধীদের সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপন করার বিস্তারিত বিবরণ তদন্তকারী সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। এসব প্রতিবেদনে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে যে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে, ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া দুই প্রধান আসামিকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে যে, বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে এই বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে একটি বড় সংকটে পরিণত হতে পারে, যা জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি করবে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর। রাজধানীর পল্টন থানার অন্তর্গত বক্স কালভার্ট রোডে এক পূর্বপরিকল্পিত সশস্ত্র হামলায় গুলিবিদ্ধ হন শরীফ ওসমান বিন হাদি। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে বিশেষ চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। তবে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে ১৮ ডিসেম্বর রাত ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল গভীর ষড়যন্ত্র। প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ এবং মোটরসাইকেল চালক মোহাম্মদ আলমগীর শেখ ঘটনার বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই শরীফ ওসমান হাদির দৈনন্দিন চলাফেরা, তার নিরাপত্তাবলয় এবং নিয়মিত কর্মসূচি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। ঘটনার দিন তারা মতিঝিল ওয়াপদা মসজিদের কাছে অবস্থান নেয়। জুমার নামাজ শেষে হাদি যখন মসজিদ থেকে বের হন, তখন তারা তাকে অনুসরণ করতে শুরু করে। দুপুর আনুমানিক ২টা ২৪ মিনিটে যখন তিনি ডিআর টাওয়ারের সামনে পৌঁছান, তখন মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা ফয়সাল অত্যন্ত কাছ থেকে একটি ৭.২ বোরের রিভলবার দিয়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এই পরিকল্পিত হামলার পর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা পালিয়ে যায়।

প্রাথমিক তদন্তে প্রায় সব তদন্তকারী দল পলাতক যুবলীগ নেতা মো. তাইজুল ইসলাম বাপ্পীকে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এছাড়া ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান শুটার এবং মোহাম্মদ আলমগীর শেখকে মোটরসাইকেল চালক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর, কল রেকর্ড, সিডিআর (Call Detail Record), আইএমইআই (IMEI) এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একটি বিশাল সহায়ক নেটওয়ার্কের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা গেছে, অস্ত্র সরবরাহ থেকে শুরু করে নিরাপদ আশ্রয় প্রদান এবং পালানোর পথ প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে একটি সুসংগঠিত চক্র কাজ করেছে। হামলার আগের রাতে কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, উত্তরা, আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর ও সাভার এলাকায় বেশ কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তির রহস্যজনক চলাচলের তথ্য পাওয়া গেছে, যা এই হামলার প্রস্তুতির অংশ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল ও আলমগীর পেশাদার মানব পাচারকারী এবং চোরাকারবারি নেটওয়ার্কের সহায়তা নিয়ে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। সেখানে তারা আত্মগোপন করে। অবশেষে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ টাস্কফোর্স উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে প্রথমে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং পরিচয় গোপন করে ভারতে অবস্থানের অভিযোগ আনা হয় এবং কলকাতার বিধাননগর আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠায়। মামলার সংবেদনশীলতার কথা বিবেচনা করে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা বিভাগ তাদের ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে দিল্লিতে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এই জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়দাতা, অর্থদাতা এবং অস্ত্র সরবরাহকারীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সন্ধান মেলে।

এদিকে বাংলাদেশে তদন্ত প্রক্রিয়ায় ডিবি পুলিশ ঘটনার ২১ দিনের মধ্যেই ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। তবে হাদির পরিবার এবং ইনকিলাব মঞ্চ এই অভিযোগপত্রের তীব্র সমালোচনা করে। তাদের অভিযোগ ছিল, ডিবি পুলিশ কেবল দৃশ্যমান অপরাধীদের শনাক্ত করেছে, কিন্তু পর্দার আড়ালে থাকা মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের নাম গোপন করেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তারা আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করে এবং অধিকতর তদন্তের দাবি জানায়। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে মামলাটি সিআইডির (CID) কাছে হস্তান্তর করে।

সিআইডির তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা বিভিন্ন কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ভারত থেকে গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ, সীমান্ত পারাপারের নথি এবং সহযোগীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক তথ্য পেতে বিলম্ব হওয়ায় সিআইডির প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা এ পর্যন্ত ১৮ বার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২০শে আগস্ট প্রতিবেদন জমার কথা থাকলেও তা জমা দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকা সত্ত্বেও আসামিদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতীয় আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া, অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা এবং কিছু আইনি আপত্তির কারণে তাদের হস্তান্তর বিলম্বিত হচ্ছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত পলাতক যুবলীগ নেতা মো. তাইজুল ইসলাম বাপ্পীর বিষয়ে তদন্তে আরও চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে। বাপ্পী ২০২৫ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর ভ্রমণ ভিসায় বেনাপোল সীমান্ত হয়ে কলকাতায় চলে যান। সেখানে তিনি নিজের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন করে মো. মহিদউদ্দিন চৌধুরী নামে এবং পিতার নাম মো. নজরুল উদ্দিন চৌধুরী ব্যবহার করে ভারতীয় আধারকার্ড ও প্যানকার্ড সংগ্রহ করেছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাপ্পী তার জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্ম তারিখের দিন ও মাস অপরিবর্তিত রেখে কেবল জন্মসাল এবং পিতার নাম আংশিক পরিবর্তন করে এই জাল পরিচয় তৈরি করেছেন। বর্তমানে তিনি কলকাতার খিদিরপুর এলাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে যে, বাপ্পীর নির্দেশনায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ এবং মোহাম্মদ আলমগীর শেখকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফয়সাল ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এবং আদাবর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। অন্যদিকে আলমগীর আদাবর এলাকার স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সেখানে একটি ফার্নিচারের দোকান চালাতেন। এই দুজন ঘটনার চার-পাঁচ দিন আগে부터 হাদির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করে। তারা রাজনৈতিক কর্মী বা সাধারণ ভোটারের ছদ্মবেশে তার কাছাকাছি অবস্থান করে তার নিরাপত্তাবলয় এবং গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। এমনকি ৯ই ডিসেম্বর ঢাকার সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে হাদির সঙ্গে ৭-৮ জনের একটি বৈঠকে ফয়সালের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ ছিল।

হামলার আগের দিন ১১ই ডিসেম্বর আলমগীর তার পরিবারের সঙ্গে শেষ সাক্ষাৎ করেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে তারা জানতেন এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান। হামলার সময় যোগাযোগের জন্য তারা একাধিক অস্থায়ী মোবাইল নম্বর এবং বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করেছেন। তদন্তে দেখা গেছে, ফয়সালের ব্যবহৃত নম্বরগুলোর সঙ্গে আলী, তানজিমুল এবং আব্দুল্লাহ মামুন নামে কয়েকজনের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। ঘটনার আগের রাতে তানজিমুল ও আলী কেরানীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে গিয়ে পুনরায় ঢাকায় ফিরে আসেন এবং উত্তরায় আব্দুল্লাহ মামুনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীতে তারা আগারগাঁও-মোহাম্মদপুর এলাকায় ফয়সালের সঙ্গে অবস্থান করেন। র‍্যাব এই সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে তারা অস্ত্র সরবরাহ ও প্রস্তুতিতে যুক্ত ছিলেন।

ঘটনার দিন ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে সাভারের মধুমতি মডেল টাউনের গ্রিন জোন কটেজে দুই সন্দেহভাজন যুবক প্রবেশ করে এবং সকাল ৮টা ৫৮ মিনিটে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। কটেজের সার্ভিসবয় সিয়াম জিজ্ঞাসাবাদের সময় স্বীকার করেছেন যে, সেখানে ফয়সাল ও আলমগীর অবস্থান করেছিলেন। দুপুর ১২টা ৪৯ মিনিটে হাদি যখন জুমার নামাজের জন্য মতিঝিল ওয়াপদা মসজিদে প্রবেশ করেন, তার ঠিক তিন মিনিট পর ফয়সাল ও আলমগীর মোটরসাইকেলে করে মসজিদের কাছের খলিল হোটেল গলিতে অবস্থান নেন। তারা দীর্ঘ সময় ধরে এলাকা পর্যবেক্ষণ করেন এবং মোটরসাইকেল চালক আলমগীরকে বারবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়। নামাজ শেষে হাদি যখন পায়ে হেঁটে গলিতে আসেন, তারা তাকে অনুসরণ শুরু করে। দুপুর ২টা ১৬ মিনিটে হাদি অটোরিকশায় উঠলে তারা মোটরসাইকেলে তাকে পিছু নেয়। অটোরিকশাটি শাপলা চত্বর ও ডিআইটি এভিনিউ হয়ে বক্স কালভার্ট রোডে প্রবেশ করলে দুপুর ২টা ২৪ মিনিটে ডিআর টাওয়ারের সামনে ফয়সাল খুব কাছ থেকে গুলি করে এবং দ্রুত বিজয়নগরের পানির ট্যাংকি মোড় হয়ে পালিয়ে যায়।

তদন্তে আরও দেখা গেছে, এই পালানোর পথ আগে থেকেই প্রস্তুত করা ছিল। ভারতীয় নাগরিক ফিলিপ সাংমা এবং স্থানীয় কিছু চোরাকারবারির সহায়তায় তারা হালুয়াঘাট সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করে। এই চক্রটি তাদের আশ্রয় এবং পরিচয় গোপন করতে সাহায্য করেছে। বাংলাদেশে আলমগীরের মা ও স্ত্রীকে র‍্যাব জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, সাহেদা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা জানতেন এবং অর্থ ও অস্ত্র আলামত গোপন করতে সহায়তা করেছেন। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং ২৬শে জুলাই ২০২৬ সালে হাইকোর্ট তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন।

ডিবি পুলিশের প্রাথমিক অভিযোগপত্রে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে হত্যার মূল কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সমালোচনা এবং রাজনৈতিক সক্রিয়তার কারণেই হাদিকে লক্ষ্য করা হয়েছে। তবে ইনকিলাব মঞ্চের দাবি, প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড এবং রাজনৈতিক নির্দেশদাতাদের আড়াল করা হয়েছে। সিআইডি এখন দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার পাশাপাশি ১২০(বি) ধারায় সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ যুক্ত করেছে। এর ফলে সরাসরি হামলায় অংশ না নিলেও যারা পরিকল্পনা, অর্থায়ন বা আশ্রয় দিয়েছেন, তাদেরও মূল অপরাধের সহযোগী হিসেবে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা এখনো বিদ্যমান। যদিও বাংলাদেশ ও ভারত নীতিগতভাবে আসামিদের ফেরত দিতে সম্মত, কিন্তু ভারতীয় আইনে তাদের বিরুদ্ধে চলমান অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পরিচয় গোপনের মামলাগুলো নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হস্তান্তর সম্ভব হচ্ছে না। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াটি এখন কেবল কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নয়, বরং ভারতীয় আদালত, কেন্দ্রীয় সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কর্তৃপক্ষের সমন্বিত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। এছাড়া মৃত্যুদণ্ডের বিধান এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত আইনি বিতর্কও এই প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ইনকিলাব মঞ্চ এই বিচারকে কেবল একটি ফৌজদারি মামলা হিসেবে নয়, বরং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক মর্যাদা এবং রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার প্রশ্ন হিসেবে দেখছে। তারা দাবি করেছে, ডিসেম্বর ২০২৬ এর মধ্যে হত্যাকারীদের ফাঁসি এবং নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, যদি দ্রুত বিচার এবং আসামিদের প্রত্যর্পণ নিশ্চিত না হয়, তবে জামায়াতসহ অন্যান্য বিরোধী দল এই বিষয়টিকে সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। বিচার বিলম্বিত হলে সরকারের বিরুদ্ধে দায়মুক্তি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবের অভিযোগ উঠতে পারে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে এবং সরকারের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।