ফেনীর ছাগলনাইয়ায় বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘাতের পর বর্তমানে সেখানে চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বুধবার অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা যেন না ঘটে, সেজন্য পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মোড়ে এবং কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে র‍্যাব ও পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। দুপুরের পর থেকেই স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পৌর সদরের জিরো পয়েন্ট, কলেজ রোড, ছাগলনাইয়া-ফেনী সড়ক এবং ছাগলনাইয়া-শুভপুর সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে র‍্যাব ও পুলিশের সদস্যরা সশস্ত্র অবস্থান নেন। এর পাশাপাশি শহরজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয় এবং নিরাপত্তা টহল জোরদার করা হয়।

বিকেল ৫টার দিকে কলেজ রোড এলাকায় আলমগীর সিদ্দিকী গ্রুপের বেশ কিছু সমর্থক একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করলে র‍্যাব ও পুলিশের কঠোর বাধায় তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এই উত্তেজনার মাঝেই ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহেরের সঙ্গে ছাত্রদল নেতা নাদিম উদ্দিন ও তার এক সহযোগীর মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় এবং ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করেনি।

ঘটনার সূত্রপাত বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ থেকে। অভিযোগ উঠেছে, ঘোপাল ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আলমগীর সিদ্দিকী ও তার সমর্থকদের হামলায় উপজেলা বিএনপির নেতা রিয়াজ উদ্দিন মজুমদার টিপু গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার গাড়িচালক আদনান, হুমায়ুন, সোহেল ও ইমনও আহত হন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রিয়াজ উদ্দিন মজুমদার টিপু ছাগলনাইয়া থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২০ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অন্যদিকে, একই দিন ভোররাতে আলমগীর সিদ্দিকী গ্রুপের সদস্য হানিফ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। সিদ্দিকী গ্রুপ এই ঘটনার জন্য টিপু গ্রুপকে দায়ী করলেও, উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। ছাগলনাইয়া থানার ওসি মো. আবু তাহের জানান, দুই পক্ষের কর্মসূচি ও পাল্টা কর্মসূচির ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।