ভিডিও প্রেস কনফারেন্সে সরাসরি উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে কেবল অডিওর মাধ্যমে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অত্যন্ত স্বল্প সময়ের ব্যবধানে নেওয়া এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণা সাধারণ মানুষ কতটা বিশ্বাসযোগ্য মনে করবে—এমন একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলেছেন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম কলকাতা’-র সম্পাদক সুব্রত আচার্য। বুধবার রাতে ‘প্রথম কলকাতা’-র অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় তিনি এই বিশ্লেষণ প্রদান করেন।
সুব্রত আচার্য তার বক্তব্যে বিস্তারিতভাবে বলেন, ‘দীর্ঘ দুই বছর পর শেখ হাসিনাকে সরাসরি ভিডিওতে দেখার প্রবল প্রত্যাশায় বিপুলসংখ্যক দর্শক ফেসবুকে যুক্ত হয়েছিলেন। এমনকি আওয়ামী লীগপন্থি বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমগুলোও জোরালোভাবে দাবি করেছিল যে, তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সরাসরি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে ভিডিওতে দেখা যায়নি; তিনি কেবল অডিও বার্তার মাধ্যমে তার বক্তব্য পেশ করেছেন।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা কথা বলা শুরু করার মুহূর্তে লাইভে দর্শক সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার। তবে তিনি ভিডিওতে উপস্থিত নেই—এই বিষয়টি বুঝতে পেরে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে দর্শক সংখ্যা প্রায় ৪৪ হাজার হ্রাস পায় এবং তা নেমে আসে ১ লাখ ৬২ হাজারে। দর্শকদের এই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নির্দেশ করে যে, তারা ভিডিওতে তাকে দেখার প্রবল প্রত্যাশায় ছিলেন।
উল্লেখ্য, দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্ট ক্লাব অফ সাউথ এশিয়ার একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শেখ হাসিনা। সেখানে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণাটি বিশ্লেষণ করে সুব্রত আচার্য বলেন, শেখ হাসিনা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে গ্রেপ্তার, কারাবাস কিংবা প্রাণনাশের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরবেন। ১৯৮১ সালে নিজের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক উদাহরণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি এই সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।
তবে এই ঘোষণা নিয়ে সুব্রত আচার্যের পর্যবেক্ষণ বেশ সতর্ক। তিনি মনে করেন, কেবল মৌখিক ঘোষণাই যথেষ্ট নয়; বাস্তবে দেশে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রস্তুতি, দলীয় সংগঠনের সক্রিয়তা এবং নিরাপত্তার সুনিশ্চিত বাস্তব ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে এর কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বা দৃশ্যমান নকশা সামনে আসেনি। তাই তার এই ঘোষণাকে একটি কৌশলগত রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখছেন তিনি, বাস্তব প্রত্যাবর্তনের কোনো পূর্ণাঙ্গ এবং কার্যকর পরিকল্পনা হিসেবে নয়।









