হবিগঞ্জের জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘খুঁজে বের করে জীবিত দাফন’ করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাওলানা কামরুল ইসলাম খাঁনের বিরুদ্ধে। এই হুমকি ও হুমকির পর চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন রিংগনের বড় ভাই মো. জাহাঙ্গীর আলম। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রোববার (২ আগস্ট) থানায় দাখিল করা জিডির আবেদনে জাহাঙ্গীর আলম বিস্তারিত উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ওই দিন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে স্ক্রল করার সময় তিনি দেখতে পান যে, মাওলানা কামরুল ইসলাম খাঁন তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনকে খুঁজে বের করে ‘জীবিত দাফন’ করার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছেন। এই হুমকি পাওয়ার পর থেকে রিংগনসহ তার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে শঙ্কিত।
জিডিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত মাওলানা কামরুল ইসলাম খাঁন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার গোপায়া ইউনিয়নের রায়ধর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির সংসদ সদস্য ও হুইপ জিকে গউছসহ দলের শীর্ষ নেতা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো নিয়ে অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য করে আসছেন। আবেদনকারীর দাবি, এসব পোস্টের ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
বিশেষ করে শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকির ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও সহিংস পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন। অভিযোগকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন প্রকাশ্য ও হিংসাত্মক হুমকির কারণে আমার ভাই ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো অশুভ ঘটনা ঘটলে যেন তা আইনগতভাবে নথিভুক্ত থাকে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই উদ্দেশ্যেই আমরা থানায় এই সাধারণ ডায়েরিটি করেছি।”
তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মাওলানা কামরুল ইসলাম খাঁনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল হক জানান, রিংগনের পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরিটি তারা গ্রহণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। ফেসবুক পোস্টের সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চালানো হবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”











