টেকনাফ প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফে বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের কার্গো স্টোর থেকে ১১ হাজার ২০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। বিশেষ কৌশলে ব্লুটুথ স্পিকারের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল এসব ইয়াবা। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজিবির জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, টেকনাফ পৌরসভার ইসলামাবাদ এলাকায় অবস্থিত স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসে থাকা একটি পার্সেলে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা রয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) ও টেকনাফ মডেল থানার পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালে ব্লুটুথ স্পিকার হিসেবে ঘোষিত একটি পার্সেল সন্দেহজনক মনে হলে সেটি খুলে দেখা হয়। পরে স্পিকারের ভেতরের বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ অপসারণ করে কালো স্কচ টেপে মোড়ানো ছয়টি প্যাকেট থেকে ১১ হাজার ২০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিজিবি জানতে পেরেছে, পার্সেলটি নারায়ণগঞ্জ থেকে টেকনাফে পাঠানো হয়েছিল। পরে ‘পণ্যটি সঠিক নয়’ উল্লেখ করে সেটি ফেরত পাঠানোর জন্য কুরিয়ার সার্ভিসে জমা দেওয়া হয়। কোম্পানির তথ্যভাণ্ডার পর্যালোচনা করে পার্সেল বহনকারী এক রাইডারের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পার্সেল জমা দিয়ে তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

এ ঘটনায় পলাতক হিসেবে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জামালের নাম উল্লেখ করেছে বিজিবি। তাঁকে এবং এ চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে বিজিবি ও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধ দমনে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।

উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ও অন্যান্য আলামত নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।