মোঃ আরিফুল ইসলাম-

ফরিদপুরের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে পরিচিত হযরত শেখ শাহ ফরিদ (র.)-এর মসজিদ ও মাজার। পাবনা জেলা প্রতিনিধি মোঃ আরিফুল ইসলামের সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, এই পবিত্র স্থানটি কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং এই অঞ্চলের ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। ধারণা করা হয়, হযরত শেখ শাহ ফরিদ (র.)-এর নাম থেকেই ফরিদপুর উপজেলার নামকরণ করা হয়েছে। লোকমুখে প্রচলিত এক বিস্ময়কর কাহিনী অনুযায়ী, তিনি কুমিরের পিঠে চড়ে এই এলাকায় আগমন করেছিলেন।

আনুমানিক ১২০০ খ্রিষ্টাব্দে ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি এখানে আসেন এবং নামাজ আদায়ের জন্য একটি ছোট মসজিদ নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যুর পর মসজিদের পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। বর্তমানে মসজিদ ও মাজার একই প্রাঙ্গণে অবস্থিত। বাংলাদেশের প্রখ্যাত পীর ও আধ্যাত্মিক ধর্মপ্রচারকদের মধ্যে তিনি অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।

শেখ শাহ ফরিদ (র.)-এর জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনা নিয়ে আরও কিছু চমকপ্রদ কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। বলা হয়, তিনি দীর্ঘ কয়েক বছর একটি পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে ধ্যানে মগ্ন ছিলেন এবং তাঁর সেই তপোবলে পাথরটি থেকে ঝরনার মতো পানি প্রবাহিত হতে শুরু করে। ফার্সি ভাষায় 'চশমা' শব্দের অর্থ হলো ঝরনা। এই ঘটনার সাথে চট্টগ্রামের একটি বিশেষ সংযোগ রয়েছে। চট্টগ্রামের ষোলশহর ২ নম্বর গেটে অবস্থিত 'চশমা পাহাড়' (চশমা হিল)-এর নামকরণ করা হয়েছে এই ঝরনার নামানুসারেই, যেখানে আজও স্বচ্ছ পানি প্রবাহিত হয়। প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী ও শ্রদ্ধাশীল মানুষ সেখানে ভিড় করেন।

পার-ফরিদপুরের এই মসজিদ ও মাজারটি ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী। যারা প্রাচীন স্থাপত্য এবং আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহী, তাদের জন্য এই স্থানটি পরিদর্শনের সুযোগ রয়েছে। একইসাথে চট্টগ্রামের চশমা পাহাড়ের সাথে এর যোগসূত্রটি পর্যটকদের জন্য এক বিশেষ আকর্ষণ। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এই মেলবন্ধন আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যের এক অনন্য উদাহরণ।