টেকনাফে যুবদের জীবনমান উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলায় যুবসমাজের জীবনমান ও জীবিকার উন্নয়ন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক সম্প্রীতি আরও জোরদার করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘কোয়ার্টারলি স্টেকহোল্ডার কো-অর্ডিনেশন ও কনসালটেশন মিটিং’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। টেকনাফের মতো বৈচিত্র্যময় এবং সংবেদনশীল এলাকায় যুবকদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই ছিল এই সভার মূল উদ্দেশ্য।
গত সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এই বিশেষ সমন্বয় সভাটি আয়োজিত হয়। ‘ইয়ুথ লিড পিসবিল্ডিং’ প্রকল্পের বিশেষ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, এনজিও ও ইনজিওর কর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম অনিক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ও অংশগ্রহণকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শফিউল আলম এবং মৎস্য অফিসের ফিল্ড অফিসার শহিদুল আলমসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়া বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাকশনএইডের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার শুভেন্দু বিশ্বাস। স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করেন রাখাইন সম্প্রদায়ের গ্রাম প্রধান মংটিন অং, ইউপি সদস্য রাহামা আক্তার এবং ইউপি সদস্য মো. হাসেমসহ বিভিন্ন এনজিও ও ইনজিওর কর্মকর্তাগণ। সাংবাদিক হিসেবে সভায় উপস্থিত ছিলেন জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন বুলু, সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ, এম. মোহাম্মদ হোসাইন এবং মাজিবুল হক।
সভার মূল আলোচ্য বিষয় ছিল টেকনাফের যুবকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের জন্য টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করা। বিশেষ করে যুবকদের কারিগরি ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কীভাবে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক সংহতি বৃদ্ধিতে যুবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম অনিক চৌধুরী বলেন, “যুবসমাজ যেকোনো দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ এবং উন্নয়নের মূল শক্তি। যদি আমরা তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারি, দক্ষতা উন্নয়ন করতে পারি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারি, তবে তারা সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের কারিগর হয়ে উঠবে। এর ফলে সামগ্রিক সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, টেকনাফের মতো বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক ও সামাজিক কাঠামোর এলাকায় বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে যুবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, যুবদের জীবনমান উন্নয়নে কেবল সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, বরং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে যুবকদের স্বাবলম্বী করা গেলে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি দেশ ও জাতির উন্নয়নেও বড় অবদান রাখতে পারবে। এই ধরনের গঠনমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
সভায় অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা স্থানীয় যুবকদের জন্য আরও বেশি করে দক্ষতা উন্নয়নমূলক কোর্স এবং জীবিকাভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণের দাবি জানান। তারা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় সাধনের ওপর জোর দেন, যাতে কাজের গতি বৃদ্ধি পায় এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়। এছাড়া শান্তি ও সামাজিক সংহতি প্রতিষ্ঠায় যুবকদের নেতৃত্ব প্রদানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে তারা একমত হন।
মিটিংয়ের শেষ পর্যায়ে চলমান কার্যক্রমের সামগ্রিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যুবকদের দক্ষতা ও আয়ের সুযোগ বৃদ্ধি পেলে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে, যা পরোক্ষভাবে স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করবে। পুরো আলোচনা সভাটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেন ‘ইয়ুথ লিড পিসবিল্ডিং’ প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর এরশাদুল ইসলাম।






