জাহাঙ্গীর আলম

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বৈকন্ঠপুর চা বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্থানীয় এক কৃষকের ওয়ারিসান সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সাইনবোর্ড স্থাপন করে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ওই জমিতে চা গাছ রোপণ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষক সেলিম মিয়ার দাবি, তিনি তার ওয়ারিসান সূত্রে প্রাপ্ত ২৮.৫ শতাংশ জমির মালিকানা আদালতের রায়ের মাধ্যমে নিশ্চিত (ডিগ্রি) হয়েছেন। আদালত থেকে তার নামে নামজারি (মিউটেশন) করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। তবে সম্প্রতি তিনি জমিতে প্রবেশ করতে গেলে চা বাগান কর্তৃপক্ষের লোকজন তাকে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেন।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের পূর্ব চারাভাঙ্গা গ্রামে, বৈকন্ঠপুর চা বাগানের পাশের এলাকায়। এ ঘটনায় কৃষক সেলিম মিয়া দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এবং আদালতের ১৪৪ ধারায় আবেদনও করেছেন বলে জানা গেছে। তবুও তিনি কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চা বাগান কর্তৃপক্ষ উল্টো সেলিম মিয়াকে বিবাদী করে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন।

এ বিষয়ে বৈকন্ঠপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক শামসুল হক ভূঁইয়া বলেন, “উক্ত জমি দীর্ঘদিন ধরে চা বাগানের দখলে রয়েছে এবং মৌখিকভাবে এটি আমাদের মালিকানাধীন। সেলিম মিয়া যে ডিগ্রি পেয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আমরা আপিল করেছি। তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে আমাদের হয়রানি করছেন।”

তবে জমির মালিকানার সুনির্দিষ্ট কাগজপত্র সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।

ভুক্তভোগী কৃষক সেলিম মিয়া বলেন, “আমি একজন হতদরিদ্র কৃষক। আইনের মাধ্যমে আমার জমির মালিকানা পেয়েছি। কিন্তু চা বাগান কর্তৃপক্ষ আমাকে জমিতে ঢুকতে দিচ্ছে না। আমি প্রশাসন ও স্থানীয় এমপি মহোদয়ের কাছে সঠিক বিচার চাই।”

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রেসক্লাব নেতা ফরাস উদ্দিন বলেন, “চা বাগান ব্যক্তিমালিকানাধীন নয়; এর মালিক জেলা প্রশাসন। দ্রুত এ বিরোধ নিষ্পত্তি না হলে এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।”

যোগাযোগ করা হলে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ বলেন, “চা বাগানের মালিকানা সরকারের। কোনো কৃষকের জমি দখলের অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ছবি:কৃষকের জমিতে চা বাগান কর্তৃপক্ষের লাগানো সাইনবোর্ড,পাশের ছবি ভুক্তভোগী কৃষক সেলিম মিয়া।