জাকির ফরাজী
পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নে মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাই ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কলাখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে স্থানীয় বাসিন্দারা আলী হোসেন ফকির, তাঁর ছেলে ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে মাদক কারবার, চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলী হোসেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিবারের কয়েকজন সদস্যের কর্মকাণ্ডে তারা অতিষ্ঠ। চুরির ঘটনায় কয়েকবার তাদের হাতেনাতে আটক করে স্থানীয়ভাবে সালিশ করা হলেও পরবর্তীতে আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এ নিয়ে এর আগে মানববন্ধন ও প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, কলাখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে একাধিক চুরির ঘটনায় আলী হোসেন ফকির ও তাঁর ছেলে-সহ কয়েকজনকে স্থানীয়রা আটক করেন। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে সালিশে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে পরবর্তীতে থানায় অভিযোগ ও জিডি করার পর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত ২১ জুন পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন এবং ২২ জুলাই শহরে মানববন্ধন করার পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। তারা মাদক ব্যবসা, চুরি ও ছিনতাই বন্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, বিকাশ ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান শেখ দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় এক লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আলী হোসেনের ছেলে সজল ফকির ও রিপন মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, মামলার এক আসামির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট থাকলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, “এলাকায় মাদক ব্যবসা, চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় একটি পরিবারের লোকজন জড়িত বলে আমরা মনে করি। দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু প্রতিকার চাই।”
মো. আবু তালেব অভিযোগ করে বলেন, “একাধিকবার গরু চুরির ঘটনায় আলী হোসেন ও তাঁর ছেলেদের আটক করা হয়েছে। সালিশও হয়েছে। কিন্তু এরপরও চুরি ও মাদকের উৎপাত বন্ধ হয়নি। আমরা প্রশাসনের কাছে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।”
রাজমিস্ত্রি হায়দার ফকির বলেন, “এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত প্রতিকার চাই।”
গৃহবধূ আফরোজা বলেন, “এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
অভিযোগের বিষয়ে আলী হোসেন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। আমি এসব অভিযোগের বিরোধিতা করছি। আমাকে নিয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি থানায় জিডি করেছি।”
কলাখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সেলিম শেখ বলেন, “চুরির ঘটনা নিয়ে আমরা একাধিকবার সালিশ করেছি এবং মীমাংসাও করে দিয়েছি। এরপরও ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।”
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেলে তা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো আসামির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট থাকলে এবং সেই ওয়ারেন্টের কাগজ থানায় এলে অবশ্যই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।”
এলাকাবাসী মাদক, চুরি ও ছিনতাই বন্ধে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।






